কিভাবে করবো বর্ষবরণ - www.islamerpath.wordpress.com

কিভাবে করবো বর্ষবরণ?

একটি বৎসরের পশ্চাৎ পসারণ আরেকটি নতুন বৎসরের আগমন-সন্ধিক্ষণ আমাদেরকে আত্মপর্যালোচনার আহ্বান জানায়। আবেদন করে ফলপ্রসু সমালোচনা আর কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের। ভবঘুরে উদাসীন ব্যক্তির দিনগুলো নিষ্ফল, আফসোস নির্মম-নিত্য সঙ্গি। কারণ, স্বীয় জীবনই যার জন্য কাল, প্রতিটি মুহূর্ত যাকে পদস্খলন আর অধঃপতনের দিকে তাড়িত করে, তার চেয়ে অধিক হতভাগা আর কে? মনে রাখতে হবে, মাস-বৎসরের উত্থান-পতন প্রকৃত দীক্ষার গুরু, যুগের আবর্তন-বিবর্তন স্বশব্দ উপদেশ বাণী। সুতরাং এর দীক্ষা গ্রহণ করো, এর উপদেশ শ্রবন করো। জনৈক খ্যাতনামা আলেমের আপ্তবাক্য, ‘চারটি বস্তু ভাগ্যহত আর বিঢ়ম্বনার নিদর্শন, চোখের শুষ্কতা, অন্তরের কাঠিন্য, লম্বা লম্বা আশা আর দুনিয়ার প্রতি অতি আগ্রহ।’

প্রিয় পাঠক! দুনিয়ার প্রতি দূর দৃষ্টি প্রদানকারী আত্মবিশ্বাস নিয়ে সহসা বলবে, এর নেয়ামত পরিক্ষার বস্তু, এতে জীবিকা নির্বাহ বিরক্তিকর, কল্যাণ সীমিত ও সংকোচিত, এর জীবন যন্ত্রণা দায়ক, এর নিষ্কলুষতা নোংড়ামি, নতুন পুরাতন উম্মুখ, রাজত্ব ক্ষয়ষ্ণু, মহব্বত ক্ষণস্থায়ী, এতে নিমজ্জিত ব্যক্তি শঙ্কিত ও আতঙ্কিত। দুনিয়া হয়তো ধ্বংসশীল নেয়ামত, আসন্ন মুসিবত কিংবা সবার উপর নিশ্চিত সিদ্ধান্ত-মৃত্যু। ‘ও আমার সমপ্রদায়! এদুনিয়া কিন্তু সামান্য উপভোগ সামগ্রী মাত্র, পক্ষান্তরে আখেরাত চিরস্থায়ী-অনন্ত।’ (সুরায়ে গাফের / মুমিন : ৩৯)

প্রিয় পাঠক! আপনি কখনো মুত্যুর ভিভিষিকা তার যাতনা, কষ্ট আর ভয়াবহতা চিন্তা করেছেন? ভেবেছেন, কত যন্ত্রণার উপর দিয়ে আপনার আত্মা দেহ ত্যাগ করবে? কেউ বলেছেন : মৃত্যু তলোয়ারের আঘাত, করাতের চিরুনী এবং কেঁচির কর্তন হতেও অসহ্য বেদনা। চিন্তা করো- ওহে মৃত্যুর ভোগান্তি হতে উদাসীন? মৃত্যু চিরন্তন, মৃত্যু নিরপেক্ষ। মৃত্যু কাউকে ভয় করে না, কাউকে দেখে সে পিছপা হয় না, কারো জন্য তার দয়া-মায়া হয় না। অতএব আত্মোন্নতি আর আত্মশুদ্ধির জন্য নিজেকে প্রস্তুত করো আর বল :

ও আমার মন, ঘনিয়ে এসেছে বিদায় বেলা,
উঁকি দিয়েছে, কঠিন মুত্যৃর অধ্যাদেশ,
তৈরী হও, প্রস্তুতি নাও আর খেলনা নয়,
বড় বড় আশা আর বৃহৎ পরিকল্পনায়।
মৃত্যু তোমায় উপনীত করবে এমন জায়গায়,
ভুলে যাবে সেখানে অকৃত্রিম বন্ধ সব প্রায়।
মাটির স্তুপ রেখে দিবে তোমরা উপর,
মণের পর মণ, যার সামর্থ নেই তোমার।
মৃত্যু আমাদের সকলের সঙ্গি,
ধনী বা গরীব কেউ রবে না বাকি।

প্রিয় পাঠক! চিন্তা করেছেন, কবর এবং তার ভেতরের অন্ধকার? সংকীর্ণতা এবং তার নির্মমতা? পিষ্ট হবে তার যাতাকলে, উত্তম-অধম, রাজা-প্রজা, সৎ-অসৎ, নেককার-বদকার, শাশক-শাশিত সকলেই। হয়তো সে জান্নাতের একটি বাগান কিংবা জাহান্নামের একটি গর্ত।

প্রিয় পাঠক! মনে করুন, আর মাত্র তিন দিন পর আপনি কবর যাত্রী, আপনার পরিধেয় বস্ত্র খোলা হলো, আপনাকে মাটির স্তুপ দিয়ে ঢেকে দেয়া হলো। আত্মীয় স্বজন ত্যাগ করছেন, বন্ধ-বান্ধব বিদায় জানাচ্ছেন, আপনার সান্তনার নেই কোনো সতীর্থ, সহপাঠি, শুধু কৃতকর্ম ছাড়া। সুতরাং আপনি আগত ভষ্যিতের সঞ্চয় হিসেবে কি পছন্দ করছেন? যা আপনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করবে, কখন সমাহিত হচ্ছেন কবরে। ‘সে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি স্বীয় কৃত ভাল-খারাপ পুঙ্খানুপুঙ্খু প্রত্যক্ষ্য করবে। বিলাপ করবে, হায়! এ কৃতকর্মের সাথে যদি আমার কোনো সম্পর্ক না থাকতো। ‘আল্লাহ স্বীয় সত্বা হতে তোমাদেরকে সতর্ক করছেন। আল্লাহ বান্দাদের প্রতি মেহেরবান-দয়াশীল।’ (আলে-ইমরান : ৩০) কবি সত্যিই বলেছেন,

আল্লাহর শপথ! যদি কোনো যুবক জীবিত থাকে,
হাজার বৎসর, সুস্থ সবল আর নিজের সার্মথ নিয়ে,
প্রতিটি স্বাদের উপভোগ করে,
আভিজাত আবাসনে বসবাস করে,
কষ্ট দেখা দেয়নি জীবনে যার,
অন্তরে চিন্তার অনুপ্রবেশ ঘটেনি তার.
হবে না সমান আরো সুখি হলে,
এক রাত-কবরের কষ্টের মুখে।

প্রিয় বন্ধু! কখনো ভেবেছো, কবরের প্রথম রাত্রির কথা। সেখানে নেই কোনো সান্তনা, সতীর্থ, বন্ধু, স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয় স্বজন, ‘অতঃপর তাকে উপনীত করা হবে, তাদের প্রভু-আল্লাহ তাআলার নিকট। স্মরণ রেখ! তার সিদ্ধান্তই একমাত্র সিদ্ধান্ত। তিনি সবচেয়ে দ্রুত হিসাব নিরসনকারী।’ (আন-আম : ৬২)

আমার গোরস্থান হয়েছি একদিন অতিক্রান্ত
সবসুখ আমার সেখানেই সর্ব শান্ত।
কবরের ভয়ানক প্রথম রাত,
আল্লাহর শপথ! বল, কি তার জিজ্ঞাসাবাদ?ৎ

প্রিয় পাঠক! চিন্তা করেছেন, ইসরাফিলের সিঙ্গ ফুঁক? পুনরুত্থান দিবসের উপস্থিতি? আমল নামার ছুটাছুটি? আল্লার সমিপে দণ্ডায়মান? কব-বেশী, ছোট-বড়, ক্ষুদ্র-বৃহৎ সব কিছুর যেখানে হিসাব গ্রহণ করা হবে। মিজান তথা পরিমাপ যন্ত্র স্থাপন করা হবে, আমল মাপার জন্য। পুলসেরাত অতিক্রম অতঃপর অপেক্ষা আর অপেক্ষা প্রহর, হয়তো ভাগ্যবান কিংবা হতভাগা বলে আহবান। ‘এক দল জান্নাতী, অপর দল জাহান্নামী।’ (সুরায়ে শুরা : ৭) ‘যারা হতভাগ্য তারা জাহান্নামে যাবে- সেখানে তারা আর্তনাদ ও চিৎকার করতে থাকবে। আসমান-জমিনের স্থায়ীকাল পর্যন্ত তারা সেখানে থাকবে। তবে তোমার প্রভু অন্য কিছু ইচ্ছে করলে, ভিন্ন কথা। নিশ্চয় তোমার প্রভু যা ইচ্ছে তা বাস্তবায়ন করতে পারেন। আর যারা ভাগ্যবান, তারা জান্নাতে যাবে, সেখানে তারা আসমান-জমিনের স্থায়ীকাল পর্যন্ত অবস্থান করবে। তবে তোমার প্রভু অন্য কিছু ইচ্ছে করলে ভিন্ন কথা, এ দানের ধারাবাহিকতা কখনো ছিন্ন হবার নয়।’ (সুরায়ে হুদ : ১০৬-১০৮)
ও আমার ভাই, কোন দলের হতে চাও তুমি? মনে রাখবে, উপদেশ গ্রহণের জন্য এতটুকুই যতেষ্ট : মৃত্যুর কাছে তুমি নিশ্চিত পরাভূত, মাটি তোমার বিছানা, কবর তোমার আস্তানা, ভূ-গর্ভ তোমার শয্যা, কেয়ামত তোমার সর্বশেষ ঠিকানা। হয়তো জান্নাত, নয়তো জাহান্নাম। তার পরেও কি চিন্তা করবে না? প্রস্তুতি নেবে না তার জন্য?
প্রিয় পাঠক! এ জীবন সংক্ষিপ্ত, সফর লম্বা, সম্বল অপ্রতুল। মানুষের দুটি অবস্থা : একটি অতীত কর্ম, যার ব্যাপারে আল্লাহর ফয়সালা জানা নেই। আরেকটি সামনের ভবিষ্যত, যার ব্যাপারে আল্লাহর সিদ্ধান্ত জানা নেই। সুতরাং বুদ্ধিমান ব্যক্তির উচিৎ, জীবন থাকতে জীবনের জন্য, প্রান থাকতে মৃত্যুর জন্য, যৌবন থাকতে বার্ধক্যের জন্য, সুস্থ্যতা থাকতে অসুস্থ্যতার জন্য, অবসরতা থাকতে ব্যাস্তার জন্য, সচ্ছলতা থাকতে অসচ্ছলতার জন্য, সার্মথ থাকতে সামর্থহীনতার জন্য প্রস্তুতি নেয়া। মৃত্যুর পর কোন তওবার সুযোগ নেই। দুনিয়ার পর তৃতীয় কোনো স্থান নেই : হয়তো জান্নাত, নয়তো জাহান্নাম। ‘অতএব যার আমলের পাল্লা বাড়ি হবে, সে সন্তোসজনক বাসস্থানে যাবে, আর যার আমল নামা হালকা হবে, তার স্থান হাওয়ীয়াহ। তুমি জানো হাওয়ীয়াহ কি? হাওয়ীয়াহ হলো, জ্বলন্ত আগুন।’ (আল-কারেয়াহ : ৬-১১) যে স্বীয় সম্পর্ক আল্লাহর সাথে ভালো রাখবে, আল্লাহ তার সম্পর্ক মানুষের সাথে ভালো করে দিবেন। যার আভ্যন্তরীন সুন্দর হবে, তার বাহ্যিক অবস্থ্যাও ভালো হবে। যে আখেরাতের জন্য আমল করবে, আল্লাহ তার দুনিয়ার সমস্ত সমস্যার সমাধান করে দেবেন। অতএব হিজরি সনের প্রারম্ভে আমাদের সকলকে নতুন প্রত্যয়, নব উদ্দমে অঙ্গিকার করা প্রয়োজন, যা আমাদের নেককাজ করতে উদ্ভুদ্ধ করবে এবং কেয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে উপস্থীত হওয়ার কাজ সহজ করে দিবে।
আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন, রসূল সা. আমার ঘাড় ধরে বলেন, ‘দুনিয়াতে তুমি ভিন দেশী লোক কিংবা একজন মুসাফিরের ন্যায় জীবনযাপন করো।’ ইবনে ওমর রা. বলতেন, ‘যখন তুমি প্রত্যুষ যাপন করো, সন্ধ্যার অপেক্ষা করো না। সন্ধ্যায় উপনীত হলে, প্রত্যুষের আশা রেখো না। তোমার সুস্থ্যতা থাকতে অসুস্থ্যতার জন্য এবং জীবন থাকতে মুত্যুর জন্য সঞ্চয় করো।’ (বোখারি : ৬৪১৬)

নিজের পরিনাম সম্পর্কে ‘ও অবচেতন’! অপরাধ সত্বেও উদ্যোগহীন! তোমার চেয়ে বড় বড় ব্যক্তিরাও মুত্যুর ওপারে চলে গেছে, তুমি এখনও অবচেতন? তওবা করো-অনুসুচনা নিয়ে, অবনত মস্তক হও দীনতাসহ। আর আবৃতি করো : ‘আমি অপরাধী, রাতের শেষ ভাগে ক্ষমা চাচ্ছি। আমি অপরাধী, আল্লাহ তুমি মেহেরবান। ভালো লোকদের সাদৃশ্য গ্রহণ করো, যদিও তুমি তাদের কেউ নও, চোখের অশ্রু নির্গত করো, অন্ধকারে আল্লাহকে আহ্বান করো। কায়মনোবাক্যে তওবা করো। বাকি জীবন লুফে নাও, গান-বাদ্য পরিত্যাগ করো, দুনিয়ার অতিমগ্নতা, গুনাহ-অপরাধ ইত্যাদি চিরতরে ত্যাগ করো, যদি তুমি সফল হতে চাও।

প্রিয় পাঠক! তুমি নিজেকে নিয়ে একাকি বসো। বিগত বৎসরে যে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে তার সামান্য হিসাব কষে নাও। ভবিষ্যতের জন্য ঐ সকল অপরাধ চিরতরে ছেড়ে দাও, এর বিপরীতে তোমাকে পরিপাটি ও সৌন্দর্য মণ্ডিত করে এমন সব আমল দ্বারা নিজেকে সজ্জিত করো। সূচনা করো আল্লাহর সাথে নতুন এক অধ্যায়ের। আশা করি, আল্লাহ তোমার পদস্খলন গুলো মাফ করে দিবেন।

মুহাসাবাতুন্নাফস বা আত্মসমালোচনা দু‘ প্রকার: এক প্রকার কাজের আগে , অপর প্রকার কাজের পরে।

প্রথম প্রকার : বান্দা তার অভিপ্রায়, এবং ইচ্ছার শুরুতেই থামবে , কাজে তাড়াহুড়ো করবেনা  যেন তার নিকট পরিস্কার হয়ে ওঠে এ কাজ সে অব্যাহত রাখবে নাকি পরিহার করবে।
হাসান বসরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি বলেন: ‘আল্লাহ ঐ ব্যক্তির ওপর অনুগ্রহ করুন, যে তার অভিপ্রায়ের সময় থামে, অত:পর যদি আল্লাহর জন্য হয়ে থাকে সে অগ্রসর হয়, আর যদি অন্যের জন্য হয় সে পরিহার  করে।’

দ্বিতীয় প্রকার : কাজের পর আত্মসমালোচনা, এটা তিন প্রকার :
প্রথম প্রকার :  আনুগত্য নিয়ে আত্মসমালোচনা. আনুগত্যে আল্লাহর অধিকারে ত্রুটি হলে যথাযথ আনুগত্য হয়নি। আনুগত্যে আল্লাহর অধিকার ছয়টি, তাহলো :
1.    এখলাছ.
2.    নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অনুকরণ.
3.    সদুপদেশ আল্লাহর জন্য হওয়া .
4.    আনুগত্যে অনুগ্রহের দৃশ্য উপস্থিত থাকা.
5.    আনুগত্যের তাওফিক  হাসিলে আপনার ওপর  আল্লাহর অনুগ্রহের কথা বিবেচনায় থাকা.
6.    আনুগত্যে আপনার অক্ষমতাকে প্রত্যক্ষ করা.
বান্দা আত্মসমালোচনা করবে, সে যে আনুগত্য করছে, এর মধ্যে আনুগত্যের ঐ সকল স্তর উপস্থিত আছে কি? নাই .
দ্বিতীয় প্রকার : আত্মসমালোচনা করা, ঐ সকল কাজে যা  পরিহার করা উত্তম ছিল.
তৃতীয় প্রকার : বৈধ অথবা অভ্যাসগত কোন কাজ কেন সে করল এর জন্য আত্মসমালোচনা করা , এতে কি আল্লাহর সন্তুষ্টি এবং পরকাল উদ্দেশ্য? তাহলে তা হবে লাভজনক , নাকি দুনিয়ায় নগদ উপার্জন উদ্দেশ্য ? তাহলে কল্যাণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এ কাজের সফলতা অর্জিত হবেনা।
ইমাম ইবনুল কায়্যিম রহমাতুল্লাহি আলাইহি আত্মোসমালোচনার যে পদ্ধতি বর্ননা করেছেন তা এই –
1.    ফরজ সমূহ দিয়ে কাজ শুরু করবে, যদি তাতে কোন ত্রুটি দেখ সংশোধন করবে.
2.    অত:পর নিষিদ্ধ কাজ সমূহ , যখন সে জানতে পারবে কোন নিষিদ্ধ কাজে সে জড়িত হয়েছে তাহলে তওবা এস্তেগফার এবং গোনাহ মোচনীয় নেককাজের মাধ্যমে সংশোধন হওয়া.
3.    অবহেলার জন্য আত্মসমালোচনা করা, এবং এর প্রতিকার করা আল্লাহর দিকে মনোযোগ দেয়া , আল্লাহ কে স্মরণ করা.
4.   অঙ্গ প্রত্যঙ্গ ব্যবহার– কথাবলা, চলাফেরা, হাতের ব্যবহার, চোখের দৃষ্টি, কানের শ্রবণ, ইত্যাদি ব্যবহারের ওপর আত্মসমালোচনা করা,  এগুলোর ব্যবহার দ্বারা আপনার উদ্দেশ্য কি ছিল? কার জন্যে করেছেন? কোন পদ্ধতিতে করেছেন?.
প্রিয় ভাই! আত্মসমালোচনা কঠিন কাজ , তবে আল্লাহ যার জন্যে সহজ করেন. কতিপয় বস্তু আছে যা বান্দার আত্মোসমালোচনায় সহায়ক। তম্মধ্যে উল্লেখ যোগ্য কয়েকটি হলো –
1.  উপলব্ধি করা যে বান্দা আল্লাহর নিরীক্ষণে আছে, এবং আল্লাহ তার ভূল-ত্রুটি সম্পর্কে অবগত, বান্দা যখন তা জানবে তখন সে মনোযোগী হবে, নিদ্রা থেকে জাগবে, এবং আত্মোসমালোচনায় তার ইচ্ছা ও প্রচেষ্টা শক্তিশালী হবে.
2.    বান্দার জানা থাকা আত্মোসমালোচনায় আজকে পরিশ্রম করা মানে আগামী কাল আরাম লাভ, আর আজকে অহেলা মানে আগামী কালের হিসাব জটিল করা.
3.    ক্বিয়ামত দিবসে পরাক্রমশীল আল্লাহর সম্মুক্ষে প্রশ্ন এবং মহাহিসাব কে স্মরণ করা, যখন সে জানবে আল্লাহর সামনে জাওয়াব দিতেহবে, তখন সে প্রস্তুত করবে প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তর। এতে করে বান্দা আত্মোসমালোচনায় যত্নবান হবে।
4.    বান্দা আত্মসমালোচনার উপকারিতা জানা, এবং তা পর্যবেক্ষণ করা, উপকারিতা গুলো হলো জানাতুল ফিরদাউসে অবস্থান, আল্লাহর পবিত্র দিদার লাভ , নবীগণ, নেককারগণ, এবং উচ্চমর্যদাশালীদের সঙ্গলাভ, আর আত্মসমালোচনা না থাকলে এসব কিছু সে খোয়াবে, হারাবে. এবং  এ হারানোর মত  আর কোন বড়  লোকসান নাই।
5.    আত্মসমালোচনা পরিহারের ক্ষতির দিকে দৃষ্টি রাখা. যা হলো ধ্বংস, বরবাদি, আগুনে প্রবেশ, আল্লাহর দিদার লাভে প্রতিবন্ধকতা, কাফের , গোমরাহ , অপবিত্র শ্রেণীর সঙ্গ হওয়া.
6.    ভালো মানুষের সাহচর্য গ্রহন যারা আত্মসমালোচনা করে, এবং নিজের দোষ ত্রুটি অনুসন্ধান করে এবং বিপরীত শ্রেণীর সাহচর্য পরিহার করা.
7.    সিরাতে মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামে এবং সাহাবা আজমাঈনদের জীবনীতে দৃষ্টি দেয়া , আমাদের সালফে সালেহীনদের মাঝে যারা মুরাকাবা, মুহাসাবাতুন্নাফস করতেন তাদের জীবনী জানা।
8.    কবর যিয়ারত করা, এবং মৃতদের মধ্যে যারা আত্মসমালোচনা করেনি তাদের অবস্থা চিন্তা করা, অথবা তাদের হাতছাড়া নেয়ামত সমূহ অনুভব করা.
9.    আলেম ওলামাদের মজলিসে , ওয়াজ মাহফিলে উপস্থিহ হওয়া, কারণ এটা আত্মসমালোচনায় সহায়ক.
10.  ক্বিয়ামুললাইল, চিন্তা,একাগ্রতার মাধ্যমে কোরআনপাঠ, এবং নানাপ্রকার এবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন।
11.  পরিহার করা প্রমোদ, গাফলতি, এবং অশ্লীলতার স্থান গুলো, কারণ এগুলো মানুষকে মুহাসাবাতুন্নাফস ভূলিয়ে দেয়.
12.  আল্লাহর স্মরণ করা, প্রর্থণাকরা যেন তিনি আপনাকে মুহাসেবীন ও মুরাকেবীনদের অর্ন্তভূক্ত করেন।
13.  নিজের উপর খারাপ ধারণা পোষণ করা , কারণ যে নিজের উপর ভালো ধারণা করে সে আত্মসমালোচনা ভূলে যায়, অথবা একে উপেক্ষা করে, কখনোবা নিজের উপর ভালো ধারণার

ফলে মনে করে তার গুনাহ ও নেকী সমান , এটা তাকে আত্মসমালোচনা না করার দিকে আহবান করে থাকে.
প্রিয় বন্ধু! উল্লেখিত বস্তু গুলোতে যে গুরুত্ব দিবে সে আল্লাহর ফজলে মুহাসাবাতুন্নাফসের ফল উপভোগ করবে দুনিয়া অথবা পরকালে, মহাসাবাতুন্নাফসে অনেক লাভ নিম্নে উদাহারণ স্বরূপ কয়েকটি বর্ণিত হলো
1.    অবগতি হওয়া আত্মার অপরাধ ও ক্ষতি সর্ম্পকে, এবং যে আত্মার অপরাধ সর্ম্পকে অবগত নয় তার পক্ষে এ গুলো অপসারণ করা সম্ভব নয়.
2.    তওবা করা , লজ্জিত হওয়া, উপযুক্ত সময় হারানো বস্তু বিষয় উপলব্ধি হওয়া.
3.    আল্লাহর অধিকার জানা, কারণ মুহাসাবার মূল হলো , আল্লাহর অধিকার আদায়ে শৈথিল্য প্রদর্শনে হিসাব- নিকাস করা.
4.    আল্লাহর কাছে নত হওয়া.
5.    বান্দার উপর আল্লাহর অনুগ্রহ, দয়া, এবং ক্ষমা সম্পর্কে জানা, বান্দা এতোতো গুনাহ এবং বিরোধীতা করার পর ও আল্লাহ তার জন্য তড়িৎ কোন ব্যবস্থা নেননি.
6.    আত্মাকে ঘৃণা করা, দোষারোপ করা, এবং অহংকার, লৌকিকতা থেকে মুক্তি লাভ.
7.    এবাদত বন্দেগিতে অধিক মেহনত করা, গুনাহ পরিত্যাগ করা যেন মুহাসাবাহ করা সহজ হয়.
8.    অপরের হক ফেরৎ দান , বিদ্বেষ ভূলে যাওয়া, উত্তম আচরণ করা, এগুলো হলো বড় মুহাসাবাহ.

প্রিয় ভাই! বুদ্ধিমান এবং আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসীর উচিৎ আত্মসমালোচনায় সে অবহেলা করবেনা, এবং আত্মার সকল নড়াচড়া, চলাফেরা, অবস্থান, প্রদক্ষেপকে চাপে রাখা, জীবনের প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাস একএকটি মূল্যবান হিরক খণ্ড তুল্য এর মাধ্যমে ধনভাণ্ডার ক্রয় করা যায় , যার নেয়ামত কখনো শেষ হবার নয় . এ মূল্যবান বস্তুকে নষ্ট করা অথবা এর মাধ্যমে এমন বস্তু ক্রয় করা যা মহা ধ্বংস কে ডেকে আনে এটা শুধু মূর্খ – নির্বোধ করে থাকবে, তার এ মহা ক্ষতির হাকিকত প্রকাশ পাবে কিয়ামত দিবসে.‘ সে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি সৎকর্ম হতে যা করেছে তা মজুদ পাবে; এবং সে যে মন্দ করেছে তাও পাবে. তখন সে ইচ্ছা করবে যে , যদি তার মধ্যে ও ঐ দুষ্কর্মের মধ্যে সুদূর ব্যবধান হতো এবং আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে স্বীয় পবিত্র অস্তিত্বের ভয় প্রদর্শন করেছেন এবং আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের প্রতি স্নেহশীল. (সূরা: আল-ইমরান:৩০)
এই ঈমানী শক্তি এবং সজিবআত্মা নিয়েই আমরা নতুন হিজরি সালকে স্বাগত জানাব. আমরা সকলেই দৃঢ়প্রতীক্ষ্য হারানো বস্তুর প্রতিকারে, এবং সকল অবস্থায় আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে কাজের

দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক আমাদের নবীর উপর এবং আহলে বাইত ও সাহাবা আজমাঈনের উপর.

PDF আকারে ডাউনলোড করুন

আরো পোস্ট পেতে এখানে ক্লিক করুন
____________________________
কিভাবে করবো বর্ষবরণ?
লেখক : খালেদ বিন হুসাইন বিন আব্দুর রহমান
অনুবাদ : কামাল উদ্দিন মোল্লা, সানাউল্লাহ নজির আহমদ
সম্পাদনা : আব্দুল্লাহ শহীদ আব্দুর রহমান
ইসলাম প্রচার ব্যুরো, রাবওয়া, রিয়াদ
কৃতজ্ঞতায় : ইসলাম হাউস

Advertisements

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s